একই পরিবারের সাতজন নিহত: ভাগ্যের নির্মম পরিহাস
নোয়াখালী | ৬ আগস্ট ২০২৫
✍️ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ হৃদয়
আজ ভোরবেলায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা নোয়াখালীতে ঘটল এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনা, যাতে একই পরিবারের সাত সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারটির একমাত্র বিদেশফেরত সদস্য, যিনি নিজ চোখে মায়ের, স্ত্রীর, মেয়ের এবং নিকটাত্মীয়দের মৃত্যু দেখেছেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে যেন বেঁচে থেকেও ধ্বংস হয়ে গেলেন।
🎯 ঘটনার বিবরণ
দুর্ঘটনাটি ঘটে ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের জগদীশপুরে।
একটি হাইস মাইক্রোবাসে চড়ে লক্ষ্মীপুরে ফিরছিল একটি পরিবার। যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল প্রবাসী আত্মীয়কে ওমান থেকে ফিরিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বাড়ি ফেরা আর সম্ভব হলো না।
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, চালক রাতভর না ঘুমিয়ে গাড়ি চালানোর কারণে ভোরের দিকে ঘুমে ঢলে পড়েন, ফলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি খালে পড়ে যায়। মাইক্রোবাসটির দরজা লক থাকায় যাত্রীদের অনেকেই বের হতে পারেননি।
ফলে মর্মান্তিকভাবে ৪ জন নারী ও ৩ জন শিশু ঘটনাস্থলেই মারা যান।
🔍 নিহতদের পরিচয়
দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারের সদস্যরা হলেন:
নাম | সম্পর্ক | বয়স আনুমানিক |
---|---|---|
ফয়জুন নেসা | নানী | ৭৫ |
মোরশিদা বেগম | মা | ৫৫ |
কবিতা বেগম | স্ত্রী | ৩০ |
লাবনী আক্তার | ভাবি | ৩৫ |
রেশমি আক্তার | ভাতিজি (শিশু) | ৮ |
লামিয়া আক্তার | ভাতিজি (শিশু) | ৯ |
মীম আক্তার | মেয়ে (শিশু) | ২ |
এই পরিবারের বাসস্থান লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ-পশ্চিম চৌপল্লী গ্রামে।
💬 প্রবাসীর বর্ণনায় বেঁচে থাকার যন্ত্রণাময় অভিজ্ঞতা
বাহার উদ্দিন নামের ওই প্রবাসী, যিনি সদ্য ওমান থেকে ফিরেছিলেন, জানান:
“গাড়ি চালক বারবার ঘুমে ঢলে পড়ছিলেন। আমি তাকে গাড়ি থামাতে বলেছিলাম, কিন্তু সে বলেছিল সব ঠিক আছে। এরপর হঠাৎ দেখি গাড়ি খালে পড়ে গেছে। আমি জানালা ভেঙে কোনোভাবে বের হতে পারলেও আমার মা, স্ত্রী, মেয়ে—কেউই বের হতে পারেনি...
তিনি আরও বলেন,
“এক মুহূর্তে আমার পুরো পরিবার আমার চোখের সামনে হারিয়ে গেল। আমি বেঁচে আছি, কিন্তু কেন বেঁচে আছি বুঝি না।
🛑 নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা প্রশ্নবিদ্ধ
এই দুর্ঘটনা আবারো প্রশ্ন তোলে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রী নিরাপত্তার ওপর।
-
চালকের ঘুমে পড়া এবং দীর্ঘ যাত্রার আগে যথাযথ বিশ্রাম না নেওয়ার ফলে অনেক দুর্ঘটনাই ঘটছে।
-
হাইস গাড়িটির দরজা লক অবস্থায় থাকায় অনেক যাত্রী আটকে ছিলেন – যা জরুরি অবস্থায় দ্রুত বের হওয়ার সুযোগকে রুদ্ধ করে দেয়।
-
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস কাজ করলেও সময়মতো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।